রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর যাবতীয় সকল তথ্য জানুন!

Rajshahi City Corporation : বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে রাজশাহীর নাম রয়েছে দেশজুড়ে। মূলত রাজশাহী বাংলাদেশের খুবই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি শহর। এই শহরটি পদ্মা নদীর তীরে গড়ে উঠে। পদ্মা নদীর তীরের সুন্দর এই শহরটি আরো নান্দনিক হয়ে উঠে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর মাধ্যমে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন Rajshahi City Corporation

রাজশাহীর জন্মকথন 

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার বছর পূর্বে মানববসতি স্থাপন শুরু হয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন অঞ্চলে। রাজশাহী নামটির জন্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আমাদের কে ফিরে যেতে হবে কয়েকশ বছর পূর্বে। রাজশাহীর পূর্ব নাম ছিল রামপুর-বোয়ালিয়া। তবে রামপুর-বোয়ালিয়া থেকে কিভাবে এর নাম রাজশাহী হল সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে কোন ঐতিহাসিকবিদ কোন মন্তব্য করেন নি। 

অধিকাংশ ঐতিহাসিকবিদ মত দিয়েছেন যে, “এমন একটা সময় ছিল যখন অনেক হিন্দুধর্মালম্বী, মুসলিম ধর্মালম্বী রাজা, সুলতান আর জমিদার এর দ্বারা এই অঞ্চলের শাসন হয় বলে এই অঞ্চলের নাম হয়েছে রাজশাহী।” তবে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ব্লকম্যান বলেন, “গৌড়ের মুসলিম সালতানাত যখন ১৫শ শতকে রাজশাহী জেলার ভাতুড়িয়ার রাজা গণেশের মাধ্যমে আত্মসাত হয়ে যাচ্ছিল সেই সময় রাজশাহী নামের উদ্ভব হয়।” যদিও ব্লকম্যানের এই মতটি সমর্থন করেন নি প্রখ্যাত ঐতিহাসিক বেভারিজ। তিনি বলেন, “আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী নামক গ্রন্থে যেহেতু এই নামটি পাওয়া যায়নি তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় রাজশাহী নামটি ১৫শ শতকে দেয়া কোন নাম নয়” 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা

১৮৬৯ সালে রাজশাহী তথা রামপুর বোয়ালিয়া সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু হয়। ১৮৮৭ সালে যখন এডভোকেট মোহাম্মদদ আব্দুল হাদী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন তখন রাজশাহী পৌরসভা রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। শুরুতে রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন লেখা হলেও ১৯৯০ সাল থেকে মিউনিসিপ্যাল এর জায়গায় সিটি লেখা হয়।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের টুকিটাকি 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সর্বমোট আয়তন ৯৬.৭২ বর্গ কিলোমিটার। এই সিটি কর্পোরেশনে থানা আছে ৪ টি। থানা গুলো হচ্ছে  শাহমখদুম,বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, ও মতিহার। এই কর্পোরেশনে মোট ওয়ার্ড ৩০ টি আর মহল্লা ১৩৪ টি। 

কিভাবে পরিচালিত হয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন?

সরকার থেকে যে আইন প্রণয়ন করা হয় মূলত সেই আইনের মাধ্যমে কর্পোরেশন চলে থাকে। মেয়র ও কাউন্সিলর দের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময় সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মূল বিভিন নীতি নির্ধারণী মূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাধারণ সভা গুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জনগণের মতামত কে মূল্যায়ণ করে এই কর্পোরেশনের বাজেট প্রণয়ন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। শুধু তাই না বাজেট প্রণয়নের সময় নগরীর সচেতন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণের জন্য প্রাথমিক বাজেট আলোচনার আয়োজন করে কর্পোরেশন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (Khulna City Corporation) যাবতীয় তথ্য জানুন!

১৯টি স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে আছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন কার্যাদি সম্পাদিত হয়। এই সকল কমিটি তে কাউন্সিলর ও সদস্য রা থাকেন। সকল সদস্যদের দের অংশগ্রহনে সংখ্যা গরিষ্ঠের ভোটে কমিটি গুলোতে ১জন সভাপতি  নির্বাচিত হন । পদাধিকার বলে মেয়র সকল কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন। সাধারণ জনসাধারণের মধ্য থেকে অনেককে প্রত্যেক কমিটিতে পরামর্শক হিসেবে নেয়া হয়। সাধারণ সভায় যে সিদ্ধান্ত গুলো মেয়র নিয়ে থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে মেয়র সে সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়ন করে থাকেন।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বিবিধ ব্যবস্থাপনা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বিবিধ ব্যবস্থাপনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, আবর্জনা বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পশুসম্পদ উন্নয়ন, ও ভূমির উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নিম্নে কর্পোরেশনের কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করা হল:

অস্বাস্থ্যকর ইমারতের ক্ষেত্রে

কোন জায়গা যদি অস্বাস্থ্যকর,বা ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় থাকে তাহলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা মালিককে তা পরিষ্কার করিতে নিদের্শ দিতে পারবে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এর সকল তথ্য জানুন!

আবর্জনা অপসারণের ক্ষেত্রে

Rajshahi City Corporation নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার পাত্রের ব্যবস্থা করে এবং কর্পোরেশন সকল জনপথ, সাধারণ পায়খানা, প্রস্রাবখানা, নর্দমা হতে আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থা করে।

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে

নগরবাসীর চিকিৎসার জন্য কর্পোরশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাসপাতাল তৈরী করতে উদ্যোগ নিবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য যে ধরণের  ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা গ্রহন করবে।

ভূমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে

যদি কোন এলাকাকে বিভিন্ন প্লটে ভাগ করতে হয় তাহলে সিটি কর্পোরেশন চাইলে সেটি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারবে। তাছাড়া ও কর্পোরেশনের অন্তভুক্ত বিভিন্ন প্লটসমূহের মূল্য নির্ধারণ, রাস্তা এবং নর্দমা ও খালি জায়গার ব্যবস্থাকরণ, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ ইত্যাদি কাজসমূহ কর্পোরেশন কতৃক সম্পাদিত হয়।

ইমারত বা ভবনের ক্ষেত্রে 

যদি কখনো কর্পোরেশন লক্ষ্য করে কোন ভবন বাসিন্দাদের অথবা পার্শ্ববর্তী পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরী করছে, তাহলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। শুধু তাই নয় যদি কোন ইমারত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে, অথবা মানুষের বসবাসের অনুপযুক্ত হয় তাহলে কর্পোরেশন ভবন টি মেরামত না করা পর্যন্ত সেখানে বসবাস নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে পারবে।


আজ থেকে প্রায় ১ হাজার বছর পূর্বে যে সিটি কর্পোরেশনে মানববসতি শুরু হয় সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্পোরেশনের উন্নয়নের চিত্র অনেকদূর এগিয়েছে। পদ্মা নদীর তীরে নান্দনিক ভাবে যে কর্পোরেশন টি গড়ে উঠেছে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো সেটি আরো নান্দনিক হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে যে রাজশাহীর নাম রয়েছে সেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আরো বেশি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত হবে এমন আশা নিশ্চয় করা যায়! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল তথ্য জানুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *