খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (khulna university) এর সকল তথ্য জানুন!

প্রায় ১০৫.৭৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়” বা খুবি’। এটি দেশের সেশনজট, সন্ত্রাস এবং ছাত্ররাজনীতিমুক্ত একমাত্র সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় যেটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খুলনা তে অবস্থিত। এটি UGC ও ACU এর অধিভুক্ত। প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (khulna university)

প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ খুবি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী বছর ১৯৯০ সালে খুবি আইন সংসদে পাস হয় যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যবিধি নিয়ন্ত্রক। এর আগে ১৯৮৩ সালে সরকারের নিকট প্রস্তাব পেশ করা হয় এবং এর তিন বছর পর ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর পাঁচ বছর পর ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। 

অনুষদ ও বিভাগসমূহ

বর্তমানে ৭টি  অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ এবং ১টি ইনস্টিটিউট রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অনুষদসমূহ

ক) বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ খ) জীবিজ্ঞান অনুষদ গ) ব্যবস্হাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ঘ) কলা ও মানবিক অনুষদ ঙ) সমাজিবিজ্ঞান অনুষদ চ) আইন অনুষদ এবং ছ) চারুকলা অনুষদ।

বিভাগসমূহ

ক). ১)স্থাপত্য বিভাগ ২) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ৩)নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগ ৪)ইলেক্ট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ ৫)গণিত বিভাগ ৬)পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ৭)রসায়ন বিভাগ ৮)পরিসংখ্যান বিভাগ।

খ). ৯) ফিশারীজ ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজী বিভাগ ১০)বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি বিভাগ ১১)পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ১২)জীবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগ ১৩)মাটি, পানি ও পরিবেশ বিভাগ ১৪)কৃষি প্রযুক্তি বিভাগ ১৫)ফার্মেসি বিভাগ।

গ). ১৬) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ১৭)মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

ঘ). ১৮) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১৯) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ২০) ইতিহাস ও সভ্যতা।

ঙ). ২১)অর্থনীতি বিভাগ ২২)সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২৩)উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ২৪)গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা।

চ). ২৫) আইন বিভাগ

ছ). ২৬) অংকন এবং চিত্রন।

২৭). মুদ্রণ তৈরি

২৮). স্কাল্পচার (ভাস্কর্য)

এবং “শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট”।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমন্ডলী

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ৫০০ এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। গত ৩০ বছরে ২৬টি ব্যাচ থেকে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা ১৩ সহস্রাধিক। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচী

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মসূচি নিম্নরূপ। 

১) বাংলাদেশে প্রথম “আরবান এন্ড রুরাল প্লানিং” (ইউআরপি) ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে বুয়েট এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ডিসিপ্লিন চালু করে। বর্তমানে দেশের প্রায় সবগুলো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েই “ইউআরপি ডিসিপ্লিন” চালু রয়েছে।

২) বাংলাদেশে প্রথম “ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন” খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়।

৩) উপমহাদেশের প্রথম “বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন” খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়।

৪) বাংলাদেশে প্রথম “এনভারেনমেন্টাল সাইন্স ডিসিপ্লিন” খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়।

৫) বাংলাদেশে প্রথম “ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন” খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়। বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে এই ডিসিপ্লিন।

এছাড়াও আরো অনেক অনন্য কর্মসূচী পরিচালনা করে খুবি মর্যাদার এক অনন্য শিখরে অবস্থান করছে।

মাষ্টারপ্ল্যান অফ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. মোর্ত্তূজা আহমেদ স্যারের প্রকাশিত একটি কলাম থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাষ্টারপ্ল্যান সম্পর্কে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নতুন ১৪টি ডিসিপ্লিন এবং দুটি ইন্সটিটিউট চালুসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল তথ্য!

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবলের সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভ করেছে, যাতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি স্কুলের অধীনে আরো ১৪টি নতুন ডিসিপ্লিন এবং দুটি ইনস্টিটিউট খোলার প্রস্তাব রয়েছে। ইতিহাস ও সভ্যতা, সাংবাদিকতা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং আইন ডিসিপ্লিন এরই মধ্যে চালু হয়েছে। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে চালু হবে এডুকেশন ডিসিপ্লিন, ভেটেরেনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, পাবলিক হেলথ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ড্রামা অ্যান্ড মিউজিক ডিসিপ্লিন এবং দুটি ইনস্টিটিউট ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) এবং ইনস্টিটিউট অব কোস্টাল জোন অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট।

আগামী ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মোট ডিসিপ্লিনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টি। এ সময় বর্তমান পাঁচ হাজার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা থেকে ১১ হাজার ৯৫ জনে উন্নীত হবে এবং শিক্ষক সংখ্যা ৩০০ থেকে বেড়ে হবে ৮২১ জন। অর্গানোগ্রামের ভিশন হিসেবে যুগের চাহিদা উপযোগী ডিসিপ্লিন চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাধারার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আরো গুণগত মান অর্জন ও উৎকর্ষ সাধনে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগামী ১০ বছরের জন্য প্রণীত এ অর্গানোগ্রাম বস্তবায়িত হলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে।”

৭১ এর সাক্ষী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

মহানগরী খুলনা থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন ময়ূর নদীর পাশে এক মনোরম পরিবেশে গল্লামারীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকাটি ছিলো ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়কার এক বধ্যভূমি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন

১)আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে স্থান লাভ। দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন।

(২) সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার আয়োজন এবং ১ জানুয়ারি থেকে সকল ডিসিপ্লিনে ক্লাস শুরু।

(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিসিপ্লিনের কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণ।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দি সুন্দরবনস (সিআইএসএস) কে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই) হিসেবে রূপান্তরের অনুমোদন লাভ।

(৫) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুল কর্তৃক থ্রি মিনিট থিসিস প্রতিযোগিতার আয়োজন।

৬) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত।

শিক্ষা ও গবেষণায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংস্থা সারাবিশ্বের ২০৬ দেশের ১৩,৫৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত লক্ষাধিক বিজ্ঞানীর সাইটেশন এর ভিত্তিতে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের তালিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন স্থান পেয়েছেন। তিনি খুবিতে কৃষি ও ফরেস্ট্রিতে প্রথম, দেশে চতুর্থ, এশিয়ায় ১৫১ ও বিশ্বে ৮২৫ তম স্থান লাভ করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে এই দিবস পালন করা হয়। সে থেকেই প্রতিবছর ২৫ই নভেম্বর এই দিবস অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে পালন করা হয়।

ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ভবন নির্মাণ

পদ্মার এপারে এটিই হবে চারতলাবিশিষ্ট সবচেয়ে বড় টিএসসি ও মিলনায়তন। এর ফ্লোরের মোট আয়তন হবে ১০ হাজার বর্গমিটার। সেখানে থাকবে এক হাজার ২০০টি আসন ব্যবস্থা। ভবনে সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি জেনারেটর এবং সোলার সিস্টেম, সিসিটিভি, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও পাঁচটি লিফট সুবিধা থাকবে।

৫৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করছে মাহবুব ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে দুইবছর।

এটা বললে অত্যুক্তি হয় না যে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট পাওয়া, কারণ অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জনসমূহ সত্যি বিস্ময় সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কে আরো অনেক কিছু উপহার দিবে, এটা হয়তো কোন অলীক কল্পনা নয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top