চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা

চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা যেভাবে শুরু করবেন বিস্তারিত তথ্য জানুন!

চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা : চায়না থেকে পণ্য আমদানি বা চায়নার সাথে ব্যবসা করাটা এই অনলাইনের যুগে নিতান্তই সহজ একটি ব্যাপার। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা সেনজেনে গিয়ে থাকে, কারণ সেখানে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। আজ আপনাদের এই ব্লগে চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা সম্পর্কে পুরো ধারণাটি বুঝিয়ে বলব।

চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা

ইমপোর্ট ব্যবসার আইনি প্রক্রিয়া

বাংলাদেশি কোন ব্যক্তি চীন থেকে কোন পন্য আনতে হলে তাকে প্রথমে করতে হবে ইমপোর্ট বা আমদানি লাইসেন্স

আপনি যদি অফিশিয়ালি বৈধ পথে চায়না থেকে পণ্য আনতে চান তাহলে আপনার যা যা লাগবে

  1. ট্রেড লাইসেন্স বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ।
  1. TIN বা Tax Identification Number সার্টিফিকেট
  1. কোনো স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্যতা সনদপত্র 
  1. আপনার ব্যাংক একাউন্টের আর্থিক স্বচ্ছলতা সনদ

শুরুতে আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং উপরোক্ত ডকুমেন্টগুলো নিয়ে আমদানি ও রপ্তানী নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর থেকে আমদানি লাইসেন্স এর জন্য এপ্লাই করবেন। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর আপনাকে আমদানি লাইসেন্স প্রদান করা হবে। স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম ২০২২ (বিস্তারিত তথ্য)

লাইসেন্স পরবর্তী প্রক্রিয়া

লাইসেন্স পাওয়ার পরে চীনের কোনো ব্যবসায়ীকে নির্বাচিত করতে হবে এবং চাহিদা মতো পণ্য অর্ডার করতে হবে। তার আগে আপনাকে একটি ব্যাংক থেকে বিক্রেতার নামে একটি LC খুলতে হবে। কারণ নিশ্চিতকরণের জন্য বিক্রেতা LC চাইতে পারে। মূলত এটি হল বিক্রেতার জন্য টাকা পাওয়ার একটি নিরাপত্তা পত্র।

LC এর ক্ষেত্রে ব্যাংক হবে আপনার প্রতিনিধি এবং ব্যাংক উক্ত বিক্রেতাকে এই মর্মে প্রত্যয়ন করবে যে যদি পণ্য পাওয়ার পরে আপনি, বিক্রেতাকে টাকা না দিতে চান তবে ব্যাংক উক্ত টাকা প্রদান করবে । সবকিছু শেষে LC কাগজ বিক্রেতার কাছে পাঠাতে হবে।

LC হাতে পেলেই বিক্রেতা আপনার পন্য জাহাজে বা বিমানে বা অন্য কোন গাড়ীতে করে পাঠিয়ে দিবে। আপনার পন্য বাংলাদেশ বর্ডারে আসলে সেখানে আপনাকে আমদানি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এর পরে আপনার পন্য আপনি নিয়ে আসতে পারবেন।

পরিকল্পনা

পণ্যের ফরমায়েশ পাওয়ার পর, তা নিয়ে রিসার্চ করুন। ক্রয় বিক্রয় হতে আপনার মুনাফা কতো হলো সেই হিসাব রাখতে হবে এবং কি ধরণের পণ্য কিনলে আপনার মুনাফা অর্জন ধারাবাহিকতা থাকবে সেটা চিন্তা করুন। আপনি যদি প্রথমবার চায়না হতে পণ্য আনতে চান তাহলে আপনাকে কিছু পণ্য কিনে বাংলাদেশে আনতে হবে এবং কমপক্ষে ছয়মাস বাজার রেট ও কর্মক্ষমতা দেখতে হবে। যেমনঃ মোবাইল ফোন, যদি চায়না থেকে মোবাইল ফোন আনতে চান তাহলে আগে কয়েকটা আনুন, তারপর বাড়ির সদস্যদের ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে দিন, ফলাফল কি হয় দেখুন। এভাবেই একটু মাথা খাটিয়ে চায়না থেকে পণ্য কিনে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল আমদানিকারক।

আপনার আইডিয়ার দ্রুত প্রয়োগ

নিজে যদি সেলস-মার্কেটিং (যা প্রাথমিক অবস্থায় ব্যয়বহুল) করতে না চান, তবে এবার দেশে খুচরা পরিবেশকের সন্ধান করুন। বাড়তি স্টোরেজ ফি, সেলস কস্ট এড়াতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমদানিকৃত পণ্য খালাস করুন। পণ্য আমদানি করার সাথে সাথেই স্থানীয় ক্রেতাদের সাথে কেনা-বেচার কাজটি সেরে নিন। ব্যবসা করার নিয়ম সঠিক নিয়ম কানুন জানুন!

পণ্য আনার উপায়

নমুনা হিসেবে খুব কম পণ্য আনতে চাইলে (যা আসলে গিফটের পর্যায়ে পড়ে), তবে লক্ষ্য রাখবেন, পণ্য যেন সরকারি সার্ভিসে আসে। তা না হলে, DHL বা UPS-এ আসলে ট্যাক্স হিসেবে আপনাকে অনেক টাকা গুনতে হবে। আর যদি মাঝারি বা পেশাদারভাবে কাজটি করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই এলসির মাধ্যমে যেতে হবে।

যাইহোক, অনেক সময়ই পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি আমদানিকারকদের যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে। আপনিও যদি কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চান তবে তাকে অবশ্যই চায়নার ব্যবসাক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যের উপর ভরসা না করে নিজে পরিশ্রম করা উচিৎ।

চায়না থেকে বাংলাদেশে বিমানে করে পণ্য আসতে ৩-৪ দিন লাগে, আর জাহাজে করে আসলে লাগে ৪৫ দিন ক্লিয়ারেন্সসহ।

শেষকথা 

বর্তমানে চায়না থেকে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ এসে ব্যবসা করতে চান এমন অনেকেই মনে করেন এটা খুব কঠিন। আসলে বিষয়টা এতোটা কঠিন নয়। সঠিক ইনফরমেশন এবং নিয়ম মেনে আপনি ও শুরু করে দিন চায়না থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসা!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *